রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৫:০২
মিত্রদের জীর্ণ দড়ি; কেন রিয়াদের পাশে ইয়েমেন যুদ্ধে যেতে কেউ প্রস্তুত নয়?

সৌদি আরব বিষয়ক বিশেষজ্ঞের মতে, হুমকির দিক থেকে ইয়েমেন ইহুদিবাদী ইসরাইলের জন্য পরবর্তী হিজবুল্লাহ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, সৌদি আরবের ইয়েমেনবিরোধী সামরিক অভিযানে রিয়াদের মিত্রদের অংশ না নেওয়ার বিষয়ে তাসনিম নিউজের আন্তর্জাতিক বিভাগের সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হোসেইন আফরাখতে বলেন, রিয়াদের মিত্রদের অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক-এই তিন স্তরে ভাগ করা যায়।

অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ইয়েমেনের ভেতরে সৌদি আরবের মিত্রদের মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল, এই কাউন্সিলের মিত্র গোষ্ঠীগুলো এবং আনসারুল্লাহর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া অন্যান্য গোষ্ঠী। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতে তারা সৌদি আরবের সঙ্গে যোগ দেয়নি।

তিনি বলেন, এসব গোষ্ঠী একরকম নয়। যেমন, দক্ষিণ ইয়েমেনের সবচেয়ে সংগঠিত শক্তি সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) ও এর অনুগত বাহিনী গত বছরের শরতের শেষের দিকের ঘটনাবলির কারণে সৌদি আরবের ওপর সন্তুষ্ট নয়। ওই সময় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হয়, যার পরিণতিতে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল বিলুপ্ত এবং আবুধাবিকে ইয়েমেন থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর ফলে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলো এক অর্থে দখল হয়ে যায় এবং দক্ষিণ ইয়েমেনের ৮টি প্রদেশ সম্পূর্ণভাবে সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

ইয়েমেনে রিয়াদের অচলাবস্থা; সৌদি আরব একা হয়ে পড়েছে

সৌদি আরব ও ইয়েমেন বিষয়ক এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, এসব সংঘর্ষে এমন কিছু বাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা আনসারুল্লাহর সঙ্গে একমত ছিল না এবং তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান করেছিল। কিন্তু সৌদিরা যত চেষ্টাই করুক, এসব বাহিনীকে নিজেদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারেনি।

এমনকি যেসব শক্তি সাধারণত বারবার পক্ষ পরিবর্তন করে, তারাও এবার রিয়াদকে উল্লেখযোগ্যভাবে সহযোগিতা করতে পারেনি। এসব বাহিনী ‘তায়িজ’-এ ইসলাহ পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র ব্যক্তিদের কাছে পরাজিত হয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে বিভিন্ন পক্ষ কোনো না কোনোভাবে সৌদি আরবকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছে এবং এ দিক থেকে রিয়াদ কার্যত একা হয়ে পড়েছে।

আঞ্চলিক পক্ষগুলোর অক্ষমতা

তিনি বলেন, আঞ্চলিক পর্যায়েও আমরা অভ্যন্তরীণ পর্যায়ের একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি দেখতে পাচ্ছি। সৌদি আরবের ইয়েমেন যুদ্ধে ব্যর্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত সন্তুষ্ট-বিশেষ করে প্রায় আট মাস আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রতিক্রিয়া হিসেবে।

সে সময় আবুধাবি আনুষ্ঠানিকভাবে ইয়েমেন থেকে তাদের সেনা ও সামরিক উপদেষ্টাদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছিল। এখন আমিরাত রিয়াদকে বলতে পারে, ‘তুমি আমাদের বের করে দিয়েছিলে, কিন্তু নিজে আনসারুল্লাহর মোকাবিলা করতে পারোনি।‘

এখানে আরও বলতে হয়, অন্যান্য আঞ্চলিক পক্ষেরও আনসারুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে জড়ানোর সক্ষমতা নেই এবং তারা আদৌ এ কাজে আগ্রহী নয়।

ট্রাম্পের একতরফা যুদ্ধবিরতি

তৃতীয় স্তর অর্থাৎ আন্তর্জাতিক পক্ষ ও সৌদি আরবের মিত্রদের প্রসঙ্গে এই বিশ্লেষক বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে-অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক পর্যায়ে-যে ঘটনা দেখা গেছে, তৃতীয় স্তরেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের বিরুদ্ধে এক সপ্তাহব্যাপী এবং আরেকটি ৫৮ দিনের যুদ্ধ পরিচালনা করেছিল, কিন্তু পরাজিত হয়। শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পকে ৫৮ দিনের যুদ্ধ-যাকে ‘অপারেশন রাফ রাইডার’ বলা হয়েছে-থেকে একতরফা যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে হয়।

তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর আমেরিকানরা ইয়েমেনের ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে আচরণ করছে এবং এর মাধ্যমে তারা এই বার্তা দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন আনসারুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যেতে প্রস্তুত নয়।

তিনি আরও বলেন, ইসরাইলি সরকারের ইয়েমেন যুদ্ধে প্রবেশের আগ্রহ নিয়ে বিভিন্ন কথা শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে আনসারুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।

সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইয়েমেনিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছেন এবং এ লক্ষ্যে দুটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পাঠানো হয়েছে। যদিও লন্ডন ও রিয়াদের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে এবং ব্রিটেনের সৌদি আরবকে রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, বাস্তবে ব্রিটেনের সেই সক্ষমতা নেই।

তিনি প্রশ্ন করেন, লোহিত সাগরে উপস্থিত থাকার ক্ষেত্রে ব্রিটেনের কী সক্ষমতা রয়েছে? এ ক্ষেত্রে লোহিত সাগরে নৌ চলাচল সুরক্ষার জন্য ইউরোপীয় নৌ মিশনের দিকে তাকালেই বিষয়টি বোঝা যায়। দুই বা তিনটি যুদ্ধজাহাজ এসে উত্তর লোহিত সাগর থেকে বাব আল-মান্দাব ও ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করছে। বাস্তবে এত বিশাল এলাকা তাদের পক্ষে পর্যবেক্ষণ বা সংঘাতে জড়ানো সম্ভব নয়। এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শত শত জাহাজ চলাচল করে। কোথাও সংঘর্ষ শুরু হলে ইউরোপীয় যুদ্ধজাহাজ সেখানে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে।

সৌদি আরবের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসছে না

এই বিশেষজ্ঞ জোর দিয়ে বলেন, গত কয়েক বছরে ইউরোপীয়রা প্রমাণ করেছে যে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে আনসারুল্লাহর মোকাবিলা করার মতো তাদের সক্ষমতা নেই।

তিনি বলেন, সৌদি আরবকে সমর্থন করার জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর জারি করা নির্দেশটি মূলত দুই দেশের প্রতিরক্ষা চুক্তির আনুষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা পালনের উদ্দেশ্যেই দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একইভাবে ‘মক্কা চুক্তি’র কালি শুকানোর আগেই তিনটি দেশের-সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক-একটির ভূখণ্ডে হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পাকিস্তান ও তুরস্কের কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে তারা এই সংঘাতে প্রবেশ করতে চায় না।

এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব পড়েছে যে তাদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসছে না। তবে এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। মধ্যমেয়াদে বা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ইয়েমেনের সংঘাতে প্রবেশ করতে পারে এবং বাব আল-মান্দাব প্রণালির যাফর ও মায়ুনের মতো কয়েকটি দ্বীপ দখলের চেষ্টা করতে পারে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, কোনো কাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিই নেই। প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতির সঙ্গে এত বেশি চ্যালেঞ্জ জড়িত যে যেকোনো পক্ষই তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতে বাধ্য হবে এবং শেষ পর্যন্ত পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত হতে পারে।

আনসারুল্লাহর বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নিরাপত্তা-ধাঁধা; ‘খারাপ ও আরও খারাপ’-এর দ্বিধা

আফরাখতে বলেন, ইয়েমেন সংকটের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও এই অঞ্চলের আরব দেশগুলোর নীতিতে এক ধরনের বিভ্রান্তি দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা ‘নিরাপত্তা-ধাঁধা’ নামে একটি ধারণা ব্যবহার করি। সৌদি আরবের ক্ষেত্রে এই ধারণাটি আরও স্পষ্টভাবে প্রযোজ্য।

রিয়াদ ইয়েমেনের বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারে না। কারণ এটি তার কৌশলগত গভীরতার অংশ এবং ইয়েমেনের সঙ্গে সৌদি আরবের শত শত কিলোমিটার অভিন্ন সীমান্ত রয়েছে। স্পষ্টতই সৌদি আরবের জাতীয় নিরাপত্তা এই ইস্যুর সঙ্গে জড়িত।

তবে রিয়াদ বাস্তবতাগুলো মেনে নিতে চায় না। সৌদি আরবের সামনে যে দুটি পথ রয়েছে, দুটিই ‘খারাপ’ ও ‘আরও খারাপ’-অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

একটি পথ হলো আজ সৌদি আরবকে অবস্থান পরিবর্তন করে বলতে হবে যে তারা ইয়েমেনিদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ দাবি মেনে নিচ্ছে। কিন্তু রিয়াদের জন্য এটি বড় ধরনের পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এর ফলে আঞ্চলিক পর্যায়ে সৌদি আরবের মর্যাদায় প্রভাব পড়তে পারে। এর রাজনৈতিক, নিরাপত্তাগত ও আঞ্চলিক পরিণতি স্বল্প ও দীর্ঘ-উভয় মেয়াদেই সৌদি আরবকে মোকাবিলা করতে হতে পারে।

অন্যদিকে সংঘাত অব্যাহত রাখার অর্থ হলো উত্তেজনা আরও বাড়ানো। কারণ বর্তমান সংঘাতের ধারায় সৌদি আরব ও তার সহযোগী বাহিনী ভূখণ্ড হারাচ্ছে এবং সময় তাদের পক্ষে নেই।

একই সময়ে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে অবস্থিত স্থাপনাগুলোও ইয়েমেনিদের হামলার মুখে রয়েছে। ফলে সৌদিদের উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ এবং আনসারুল্লাহর যুদ্ধক্ষমতা থামানোর চেষ্টা করতে হবে। অন্যথায়, গত দুই মাসে আনসারুল্লাহ যে ধরনের সক্ষমতা দেখিয়েছে, সেই ধারায় উত্তেজনার মাত্রা বাড়লে সৌদি আরবকে অভ্যন্তরীণ ও দক্ষিণ ইয়েমেনের উভয় ফ্রন্টেই যে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে, তা নিঃসন্দেহে আরও বাড়বে।

উত্তেজনা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী

ইয়েমেনের পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে এই আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ বলেন, বর্তমান উত্তেজনা ধীর গতিতে এগোচ্ছে এবং আনসারুল্লাহ সম্ভবত তায়িজ দখলের পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে।

সে সময় তারা মধ্যস্থতাকারীকে রিয়াদকে জানাতে বলবে যে আনসারুল্লাহ আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তখন সৌদি আরবকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে-সংঘাত অব্যাহত রেখে মারিব হারাবে, নাকি আনসারুল্লাহর কিছু দাবি মেনে নিয়ে সময় কিনবে।

সম্ভবত মধ্যমেয়াদে সৌদি আরব অভ্যন্তরীণ, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক-সব পর্যায়ে আনসারুল্লাহর মোকাবিলায় নতুন করে শক্তি সংগঠিত করার সুযোগ পেতে পারে।

তেলআবিবের জন্য পরবর্তী হিজবুল্লাহ ইয়েমেন

ইয়েমেন ইস্যুতে নিজের উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১১ বছরে সৌদি আরব প্রমাণ করেছে যে তারা ইয়েমেনিদের মোকাবিলা করতে সক্ষম নয়। এমনকি আমেরিকানরাও এসে দেখেছে যে তারা ইয়েমেনিদের পরাস্ত করতে সক্ষম নয়।

তবে তাঁর মতে, ইসরাইলের জন্য ইয়েমেনের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। ‘ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্টের যুদ্ধ’-অর্থাৎ ৭ অক্টোবরের অভিজ্ঞতা-ইসরাইলকে দেখিয়েছে যে হুমকির দিক থেকে ইয়েমেন তেলআবিবের জন্য পরবর্তী হিজবুল্লাহ।

অন্যদিকে এখানে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উপাদানও রয়েছে। ইসরাইলি সংবাদপত্র ‘হারেৎজ’-এর একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, একজন ইয়েমেনি যোদ্ধা একটি গাইডেড অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে খালি চোখে বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে থাকা একটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।

আফরাখতে বলেন, ইয়েমেন নিজেই ইসরাইলের জন্য একটি হুমকি, কারণ এই সরকারের সমুদ্রবাণিজ্যের ৭০ শতাংশ দুটি বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়, যার একটি হলো লোহিত সাগরের উত্তরে অবস্থিত উম্মুর রাশরাশ (এলাত)।

এর অর্থ হলো, আনসারুল্লাহ যখনই চাইবে, ইসরাইলের সমুদ্রবাণিজ্যের পথ বন্ধ করে দিতে পারবে-এমন দাবি ওই বিশ্লেষকের। একই সময়ে আনসারুল্লাহর ঘোষিত নীতিতে ইহুদি (ইসরাইলি) রাষ্ট্রের বিলুপ্তির আহ্বান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর মতে, এসব বিষয় তেলআবিবের নীতিনির্ধারকদের কাছে স্পষ্ট করে যে এ ধরনের ইয়েমেন ইসরাইলের জন্য একটি গুরুতর হুমকি।

ইয়েমেনে ইসরাইলের প্রকল্প শুরুর বিষয়ে সতর্কতা

২০০৬ সালের ৩৩ দিনের যুদ্ধে ইসরাইলের পরাজয়ের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই যুদ্ধে লেবাননের প্রতিরোধ ইসরাইলের ওপর পরাজয় চাপিয়ে দিয়েছিল। এরপর ইসরাইল ১৮ বছর ধরে কাজ করেছে-প্রভাব বিস্তার, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও পরিকল্পনা করেছে। এর মাধ্যমে গত বছরের গ্রীষ্মে লেবাননের প্রতিরোধের ওপর বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করা হয়; এর মধ্যে ছিল পেজার বিস্ফোরণ এবং সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ও হিজবুল্লাহর শীর্ষ কমান্ডারদের শাহাদাত।

এই বিশেষজ্ঞ শেষ পর্যন্ত আনসারুল্লাহর মোকাবিলায় সব পক্ষের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তাদের সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাবকে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ইয়েমেনের ভূগোল, জনমিতি, ভূরাজনীতি, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামো এবং এমনকি রাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এসব পক্ষ কার্যত অন্ধকারে রয়েছে।

তাঁর মতে, ইসরাইলিদের আচরণের ধরন সম্পর্কে যে ধারণা রয়েছে এবং গত দুই বছরে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বলা যায়, ইসরাইলিরা ইয়েমেনের সমাজ, দেশটির রাজনৈতিক কাঠামো এবং আনসারুল্লাহ সম্পর্কে জানার জন্য বিনিয়োগ ও গবেষণা শুরু করেছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha